সাফল্যের ২৭ বছর পরও বামনী ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ হয়নি

ক্যাম্পাস থেকে ফিরে, এএইচএম মান্নান মুন্না: – আন্তরিক প্রচেষ্ঠা থাকলে গ্রামের মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বামনী ডিগ্রি কলেজ। উপকূলীয় এলাকার নিভৃত পল্লীতে হলেও সার্বিক দিক বিবেচনায় স্বীকৃত প্রাপ্ত একটি কলেজ। এটি সম্ভব হয়েছে যার প্রচেষ্ঠায় তিনি হচ্ছেন কলেজ অধ্যক্ষমোহাম্মদ রাহবার হোসেন। সমাজে গর্ব করার মতো কিছু দিপ্তমান মানুষ থাকেন তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ রাহবার হোসেন একজন। তিনি একজন সফল অধ্যক্ষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় উপকূলীয় এলাকায় একমাত্র বেসরকারি কলেজ হিসেবে নারী-পুরুষ শিক্ষা জাগরণে যুগের চাহিদা ও সময়ের দাবীতে ১৯৯৪ খ্রি: স্থানীয় সমাজ হিতৈষী ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি বর্গের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত হয় বামনী কলেজ। ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে শুরু হয় বামনী কলেজের যাত্রা। ২০০১খ্রি: দাগনভূঞা ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ ছেড়ে বামনী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে আসীন হন মোহাম্মদ রাহবার হোসেন। এই কলেজকে সমৃদ্ধ ও শিক্ষা বান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কঠিন দায়িত্ব নেন অধ্যক্ষ ও দক্ষ শিক্ষা গুরু।

কালের বিবর্তনে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কলেজটি এখন ভৌতিক কাঠামোগত হয়েছে। ২০১২-২০১৩ শিক্ষা বর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডিগ্রি কোর্সের অধিভূক্ত হয়ে পাঠদানের অনুমোদন পান। তখন থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ডিগ্রি পর্যায়ে রূপ নেয় এবং বামনী মহাবিদ্যালয় নাম পরির্বতন হয়ে সকলের কাছে পরিচিতি পায় বামনী ডিগ্রি কলেজ। এখন  নিয়মিতভাবে স্নাতক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রী বিএসএস (মানবিক) ও বিবিএস (ব্যবসায় শিক্ষা) শাখায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। প্রথম থেকেই ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ভালো ফলাফল অর্জন করে এলাকার সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। অত্র কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে  দেশ সেবায় কর্মরত রয়েছেন।

এতে উপকূলীয় এলকার হত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি পর্যায়ের পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হওয়াতে এলাকার উচ্চ শিক্ষিত হারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রাহবার হোসেন পড়াশোনার মান উন্নয়নে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি সুদক্ষ ও চৌকস শিক্ষক, গভর্নিং বডি সভাপতি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং অভিভাবকদের সমন্বয়ে এই উপকূলীয় এলাকার কলেজটিকে নতুন করে সাজিয়েছেন। পড়াশোনা ও কলেজের উন্নয়নে এবং ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিও করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবুও স্নাতক পর্যায়ে হয়নি কলেজটি এমপিও ভুক্ত।

বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ১৩শ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলেজটি নোয়াখালীর জেলার মধ্যে ফলাফলে ২ বার এবং উপজেলা পর্যায়ে বহুবার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে এবং নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে কলেজটিকে লক্ষ্যে পোঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

এদিকে, মহামারি করনোর কারণে দীর্ঘ ১৮মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় বামনী ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে সবুজ বৃক্ষের ছায়ায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাস প্রতিদিন হয়ে উঠে মুখরিত। নিষ্প্রাণ কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতি ও একাডেমীক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কলেজ স্বরূপে ফিরেছে। এ মনোমুগ্ধকর কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুড়ে বেড়ানোর আর্কষণই অন্যরকম।

ডিসিপ্লিন রক্ষা করে নিয়মিত ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তার পূর্বেই কলেজ ক্যাম্পাাসে হাজির হয়। ক্লাসে বর্তমানে প্রায় ৯০% শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় বলে কলেজ সূত্রে জানা যায়।

অথচ সাফল্যের ২৭ বছর পরও কলেজটি সরকারিকরণ না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগন হতাশা প্রকাশ করেন। এলাকাবাসী কলেজটি জাতীয়করণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.