ঢালিউডের প্লেব্যাক সম্রাট কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই

বিনোদন ডেস্ক :: ঢালিউডের প্লেব্যাক সম্রাট কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই। মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করছিলেন তিনি। সেই লড়াই থেমে গেল আজ সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে। রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর শিষ্য মোমিন বিশ্বাস।

এ দেশের গানের কিংবদন্তি পুরুষ এন্ড্রু কিশোর। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গন তথা দেশের শোবিজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে দেখতে ছুটে যাচ্ছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সবাইকে সচেতন থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে এন্ড্রু কিশোরের পরিবার।

টানা নয় মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থেকে গত ১১ জুন একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তারপর থেকে তিনি রাজশাহীতে বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন এই নন্দিত গায়ক। জনপ্রিয় এই শিল্পীর চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা করেছেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর।

প্রসঙ্গত, এন্ড্রু কিশোর আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সঙ্গীতে তালিম নেন। মুক্তিযুদ্ধের পর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ ছবির ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে।

তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতীজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার কণ্ঠ শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতার সিনেমাতেও গান করেছেন এন্ড্রু কিশোর। সিনেমার গানের জন্যই যেন জন্মেছিলেন এই গায়ক। ভক্ত-অনুরাগীরা তাকে ভালোবেসে প্লেব্যাক সম্রাট বলে ডাকে। সঙ্গীতে উজাড় করে দিয়েছেন নিজেকে। আর বিনিময়ে পেয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। সেইসঙ্গে রাষ্ট্র তাকে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত করেছে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.