সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯
Home > রাজনীতি > সরকার ও ইসি যৌথভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: ফখরুল

সরকার ও ইসি যৌথভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: ফখরুল

https://www.noakhalitimes.com

নিউজ ডেস্ক :: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) যৌথভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে, ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে দেড় ঘণ্টা পর বৈঠক থেকে বের হয়ে যান ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। পরে নির্বাচন ভবনেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ”নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ তারা (সরকার ও ইসি) সৃষ্টি করতে পারছে না। যদি বলি ব্যর্থ হয়েছে, তাহলে বোধ হয় ঠিক বলা হবে না। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যে তারা ব্যর্থ করছে। যেন এটা বানচাল হয়ে যায়।”  এ নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে, কতটুকু অবাধ হবে, কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, এ প্রশ্ন তো এরই মধ্যে জাতির সামনে এসে গেছে। ভোটের মাঠে ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। সরকার ও ইসি যৌথভাবে এ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। নির্বাচন ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। ইসি ও সরকার যৌথভাবে এ নির্বাচন প্রহসনে পরিণত করেছে। ভোটের তিনদিন আগেও ন্যূনতম পরিবেশ নেই। তবে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ”সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার, মামলা চলছেই। পোস্টার লাগাতে দেয়া হচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা করা হচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। গতকালও ২৮টি স্থানে হামলা হয়েছে।”

দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সভাকক্ষে ওই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার।

বৈঠকে সিইসি কে এম নূরুল হুদা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান প্রমুখ।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সিইসির আচরণ ভদ্রজনিত ছিল না। এ জন্য আমরা সভা বয়কট করেছি। তবে আমরা নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না।

ঐক্যফ্রন্টের অপর নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, বৈঠককালে নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ড. কামাল হোসেন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন ‘পুলিশ লাঠিয়াল বাহিনীর মতো আচরণ করছে’ এমন মন্তব্য করলে তার প্রতিবাদ করেন সিইসি। তিনি ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের একটি বাহিনীকে নিয়ে তিনি এমন কথা বলতে পারেন না। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই পরে সকলে বৈঠক থেকে বের হয়ে আসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিইসি কোনো ভদ্রতা সূচিত আচরণ করেননি। আমরা পুলিশের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার কথা জানালে তিনি কোনো সহানুভূতি না জানিয়েছে হঠাৎ করেই পুলিশের পক্ষেই অবস্থান নেন। তাই আমরা বৈঠক থেকে চলে এসেছি।

ড. কামল হোসেন বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গুন্ডা বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করছে। আমাদের প্রার্থীদের জীবনের দাম না থাকলেও কর্মীদের জীবনের দাম রয়েছে। তাদের তো সেভ করতে হবে।

এ সময় সিইসি ক্ষুব্ধ হয়ে ড. কামাল হোসেনকে বলেন, আপনি এমন কী হয়েছেন যে, পুলিশকে লাঠিয়াল-জানোয়ার বলেছেন। নিজেকে কী মনে করেন? তখন মঈন খান সিইসিকে বলেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ যদি সৃষ্টি করতে না পারেন, তাহলে বলে দেন, আমরা আজকেই প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের বিষয়ে ঘোষণা দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *