সোমবার, জুলাই ৬, ২০২০
Home > বিজ্ঞান-প্রযুক্তি > যে কারনে ফেসবুক বন্ধের প্রস্তাব

যে কারনে ফেসবুক বন্ধের প্রস্তাব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক :: এক বছর আগে ডেপুটি কমিশনারদের দেওয়া মধ্যরাতে ফেসবুক বন্ধের সুপারিশকে আমলে নিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে দ্বিতীয় দফা চিঠি দিয়েছে সরকার। এ চিঠিতে কেবল ফেসবুক নয়, কার্টুন চ্যানেল বন্ধের বিষয়েও বিটিআরসির মতামত চাওয়া হয়েছে। আগের চিঠির জবাব না পাওয়ায় আবারও এ চিঠি পাঠানো হয় সংস্থাটিকে। কার্টুন দেখে আর ফেসবুক ব্যবহার করে শিশুরা তাদের সময় নষ্ট করছে এবং রাত জেগে থাকছে। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে না। এই দুই যুক্তিকে সামনে রেখে ফেসবুক বন্ধ করা জরুরি বলে ডেপুটি কমিশনাররা সুপারিশ করায় বিটিআরসির মতামত চেয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত মোস্তফা।

গত বছর ডেপুটি কমিশনারদের সম্মেলনে ফেসবুকের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ফেসবুক প্রায় নেশার মতো ব্যবহার করায় কিশোর থেকে তরুণ বয়সীদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সেসময় ফেসবুক বন্ধের সুপারিশও করেছিলেন তারা। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ টেলিযোগাযোগ বিভাগকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে রাত বারোটা থেকে ছয় ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধ রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। এদিকে গত সপ্তাহে ফেসবুক বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে ফেসবুকেই আলাপ সৃষ্টি হলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেছিলেন, দেশে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে সরকারকে ফেসবুক বন্ধ করে দিতে হবে। দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত মোস্তফা বলেন, সরকার ফেসবুক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি, নেবেও না। ২০১৬ সালের ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শিশুদের কার্টুন ও ফেসবুকে আসক্তি বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ডিসিদের পক্ষ থেকে এগুলো কিছু সময়ের জন্য বন্ধের আবেদন জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সেসময় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিআরসিকে জানানো হলেও বিটিআরসি তার জবাব দেয়নি। আগামীর ডিসি সম্মেলনের প্রস্তুতিকালে সেই বিষয়টি নজরে এলে আবারও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিআরসিকে চিঠি পাঠানো হয়।

টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ মন্ত্রণালয় থেকে মতামত চেয়ে পাঠানো চিঠির কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা আমাদের বিশ্লেষণ করে দেখেছি ওই সময়টাকে ফেসবুক শিশুরা ব্যবহার করে বিষয়টা তেমন নয়। বাইরের দেশে সেসময়টা ওয়ার্কিং আওয়ার। ফলে এটি বন্ধ রাখা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, আমরা আজকেই চিঠির মাধ্যমে আমাদের বিশ্লেষণ জানিয়ে দেবো। চিঠিতে কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশুদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ও তাদের কর্মচঞ্চলতা ব্যাহত হচ্ছে বলে ৬ ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধের বিষয়ে ছিল চিঠিটি। তবে শিশুদের জন্য ফেসবুক পারশিয়ালি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এছাড়া ফেসবুকের মধ্য দিয়ে নানা ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেগুলোও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: