রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২০
Home > মুক্তমত > ভারত হিন্দুত্ব মৌলবাদীত্বে তলিয়ে যাচ্ছে : এই পথে ভারতের মুক্তি হবে না

ভারত হিন্দুত্ব মৌলবাদীত্বে তলিয়ে যাচ্ছে : এই পথে ভারতের মুক্তি হবে না

https://www.noakhalitimes.com

গোলাম সারোয়ার :: ভারতের কেন্দ্রীয় গদি আগেই গেছে তাঁদের কাছে যাদের চিন্তা চেতনা সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরোনো জীবন্ত জীবাশ্ব ফসিল।

যাদের চিন্তা নিচে নেমে যেতে যেতে ভারত মহাসাগরের নিচে চাপা পড়া মথুরা নগরে আটকে গেছে তাঁদের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বের পরাশক্তি হবে, এই চিন্তা যারা করে তারা বোকার স্বর্গে বিচরণ করছেন।

ভারতের বর্তমান নেতৃত্ব ধর্মীয় উন্মাদনা ছাড়া ভারতীয়দের জন্যে কিংবা পৃথিবীর জন্যে কিছুই করতে পারবেনা, পারছেও না। তাঁরা বড়ো জোর আখলাখদের লাশ ফেলতে পারে পশুপাখীর উপকথা নিয়ে।

পৃথিবীর সব মৌলবাদীর এক ডাক–শিয়ালের হুক্কা হুয়া। তাদের পোষাক ভিন্ন, লেহাজ ভিন্ন, শব্দকথা ভিন্ন, কিতাব ভিন্ন কিন্তু তাঁদের বিচরণ এক, তাঁদের শিহরণ এক, তাঁদের আস্ফালন এক।

ভারতের নাগরিক সমাজের উপর আমাদের আশা ছিলো কিন্তু সে আশা তাঁরা পূরণ করতে পারছেন না। বরং ভারতের সমাজের পুরোধা গ্রাস করে নিচ্ছেন মৌলবাদের করাল থাবা।

https://www.noakhalitimes.com
যোগী আদিত্যনাথ

সর্বশেষ ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আসছেন বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদী নেতা যোগী আদিত্যনাথ ! এই খবরে আমরা বিস্মিত ! আমরা আশাহত।

গতকাল শনিবার রাজ্যের রাজধানী লক্ষ্ণৌতে বিজেপির এক সভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আদিত্যনাথের নাম ঘোষণা করেন।

যোগী আদিত্যনাথ বিজেপি থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত সাংসদ। তিনি এ রাজ্যের ৩২তম মুখ্যমন্ত্রী হলেন। ১৯৯৮ সালে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪০৩ আসনের উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় ৩১২টি আসন নিয়ে বিপুল বিজয় পায় বিজেপি।

বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আদিত্যনাথের অনেক অপনাম। তিনিও চান ভারতের মাটি থেকে বিধর্মীদের খেদিয়ে দিতে। যেমন বাংলাদেশে চান কিছু আদমি বিধর্মীদের খেদিয়ে দিতে ! কথা হলো, বাংলাদেশ এই সব পাতালপুরীর বুদ্ধিওয়ালাদের কয়েদ করে রেখেছে আর ভারত করছে মূখ্যমন্ত্রী !

ভারতের নেতৃত্বকে তবুও বলবো, আসন্ন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরে সময়েই তিস্তার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্বান্ত নিবেন আর সীমান্তে যেসব অতিউৎসায়ী জল্লাদ হত্যায় মেতে থাকে তাদের কয়েদ করবেন।

বিএসএফকে বুঝতে হবে, তোমরা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বাহিনী নও যাদের কখনোই চ্যালেঞ্জ করা যাবেনা। এতোই যদি তোমাদের কোমরে জোর থাকতো তবে কাশ্মীরে মার খেয়ে মার হজম করে কিভাবে আবার প্রিয়তমাকে মুখ দেখাও ! তারও আগে অরুনাচলে মার খেয়ে হজম করেছ, সিকিম থেকে অপমান হয়ে ফিরে এসেছ ! শুধু কি বাংলাদেশ সীমান্তে আসলে বীরত্ব বেড়ে যায় !

আমরা ভুলে যায় না, বাংলাদেশের জন্মের দাত্রী ভারত মাতা শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এবং সমগ্র ভারত । আমরা কখনোই ভুলিনা একাত্তরে এক কোটি বাঙ্গালীকে আপনারা আশ্রয় দিয়ে আমাদের চিরঋণী করেছেন। সেই ঋণের এবং বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি হলো, বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ যে কোন ভারতীয় সঙ্কটে ভারতের পাশে থাকবে।

কিন্তু গঙ্গা, তিস্তায় নদীশাসন কিংবা সীমান্ত হত্যাকে সেই বন্ধুত্ব বৈধতা দিতে পারেনা। যারা ভারছেন বাংলাদেশের তুলনায় ভারত বৃহৎশক্তি সুতরাং ভারতকে চেক দেওয়া বাংলাদেশের চিন্তার অতীত তারা বিশ্ব রাজনীতি বোঝেন না।

ভারত বড় দেশ। তার সঙ্কটও বড়। বাংলাদেশ যদি ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো ঠাণ্ডা না রাখতো তবে ভারতীয় অর্থনীতি এতো সহজে উৎরাতে পারতোনা।

বিশ্বের ইতিহাস বলে, যেসব সাম্রাজ্য বিশ্ব শাসন করেছে তারা করেছে মেধা, মনন আর ডিপ্লোমেসি দিয়ে, সাইজ দিয়ে কখনেই নয়। না হলে কামরাঙ্গা সাইজের ব্রিটেন পুরো দু্নিয়া শাসস করতে পারতো না। আবার আলু সাইজের আটোমান কিংবা সরিষা দানা সাইজের ফরাসি অথবা রোমান সাম্রাজ্য বিশ্বকে কব্জায় নিতে পারতো না।

বিশ্ব শাসন করতে কোটি কোটি লোক লাগেনা। বাপের বেটা দু’চারটিই যথেষ্ট। সে রকম বাপের বেটা বাংলার উর্বর মাটিতে কখনোই জন্ম নিবেনা এই স্বপ্ন ঠিক নয়।

ভারতকে বলবো, বাংলাদেশ প্রশ্নে যৌক্তিক হোন এবং সেক্যুলারিটির ব্যাপারেও যৌক্তিক হোন। সেটা ভারতীয়দের জন্যে যেমন শুভ তেমনি পুরো পৃথিবীর জন্যেই শুভ।

আর বিশ্বকেও মেনে নিতে হবে, এশিয়ার পারমানবিক বাস্তবতায় এ অঞ্চলের ছোট দেশগুলোও একদিন অংশ নিবেই, তা যতদিন লাগুক আর যত মন্দই হোক।

ইতোমধ্যে এশিয়ার সাড়ে চারটি দেশ পারমানবিক বোমা নিয়ে যে দিকদারীর খেলা খেলছে বাংলাদেশ সে খেলা কখনোই পারবেনা, বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস তা কিন্তু বলেনা…

লেখক : গোলাম সারোয়ার
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

One thought on “ভারত হিন্দুত্ব মৌলবাদীত্বে তলিয়ে যাচ্ছে : এই পথে ভারতের মুক্তি হবে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *