কোম্পানীগঞ্জে তৃণমূল বিএনপিতে উদ্বেগ: দায় কার?

মওদুদ-ফখরুল সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মামলা

0
470
https://www.noakhalitimes.com

এএইচএম মান্নান মুন্না :: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি এখন দু’গ্রুপে বিভক্ত। তাদের দু’গ্রুপের দ্বন্ধ এখন চরমে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও বিএনপি’র অপর নেতা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম’র সমর্থকদের একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। এ মামলা নাড়িয়ে দিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তৃণমূল বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে। অপরদিকে নেতাকর্মীরা সরকারী দলের মামলার ভারে নূহ্য। এছাড়াও নিজ দলীয় এ পাল্টাপাল্টি মামলায় এক দিকে ক্ষোভ ও হয়ারানি, অন্যদিকে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম’র বাসায় তাঁর অনুসারীরা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মিটিং-এ বসে। মিটিং চলাকালীন ব্যারিস্টার মওদুদ ঘোষিত কমিটির সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। শুধু তাই নয় ভাংচুরের পাশাপাশি বাসা থেকে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীর সাথে বাসায় রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র এবং ব্যবসায়িক কাগজপত্রসহ ব্যক্তিগত ডকুমেন্টস লুট করার অভিযোগ করে ফখরুল সমর্থকরা। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলাম’র বাড়ীর কেয়াটেকার শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ সমর্থিত ১১সমর্থকের নামে থানায় মামলা করে।

অপরদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ ঘোষিত কমিটির মুজিব কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ইমন তার উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ এনে বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম সমর্থিত ১৬ সমর্থকের নামে থানায় পাল্টা মামলা করে। এ নিয়ে উপজেলায় সকল মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণরা মনে করছে বিরোধী দলে থেকে তাদের দলকে গোছানোর জায়গায় তারা নিজেরা গ্রæপিং করে দলের মধ্যে বিভাজন তৈরী করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি করছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর নবী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ ও ফখরুল ইসলাম’র সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলায় বিএনপির ভাবমূর্তি তৃণমূলে ক্ষুন্ন হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ’র। যারা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঘোষিত কমিটির বিরোধীতা করেছে তাদের রাগ-ক্ষোভ প্রশমিত করার দায়িত্ব যদি তিনি নিতেন তাহলে ফখরুল ইসলাম সৃষ্টি হতো না। মান অভিমান ভেঙ্গে ঘরের লোক ঘরেই ফিরে আসতো।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ এর পক্ষে যারা মামলা করেছে তারাও ঠিক করে নাই এবং ফখরুল ইসলামও যে মামলা করেছে তা ঠিক হয় নাই। এটা অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। উভয়ে বিএনপির দাবীদার। তাদের এ তিক্ততা কোনটাই সমীচীন নয়।
এর বেশী আমার মন্তব্য নাই।

এ ব্যাপারে বিএনপি’র অপর নেত্রী সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী পারভীন কাওছার মুন্নির সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, বিএনপি একটি আদর্শিক দল। যারা বিএনপির ব্যানারকে ব্যবহার করে দলের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করতে চায়, তারা আদর্শিক দলের নেতাকর্মী হতে পারে না। এটি খুবই দুঃখজনক। তারা সরকার দলকে খুশি করার জন্য এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অতিদ্রুত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এ দ্ব›দ্ব নিরসন করে বেগম জিয়া ও তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মওদুদ ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপন’র সাথে আলাপ করলে সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, উভয় গ্রæপের মামলার দায়ভার উভয়ে নিবে। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।

ফখরুল ইসলাম’র সাথে মোবাইলে আলাপ করলে তিনি জানান, আমি আমার কর্মী সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলবো, সন্ত্রাসের জবাব সন্ত্রাস দিয়ে নয়, বরং জনগণের কল্যাণে সমাজসেবার ব্রত নিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করুন। আজ যাদেরকে আপনার কাছে শত্রæ মনে হচ্ছে আল্লাহ চাহেতো কাল তারাই হতে পারে আপনার রাজপথের সহযোদ্ধা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে