কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে রাজমিস্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গুমের ১ বছর পর থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

0
476

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে অপহরনের পর হত্যা করে লাশ গুমের এক বছর পর থানায় মামলা দায়ের। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো— কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মাঈন উদ্দিনের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন সবুজ, আজিজুল হকের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল হকের ছেলে মো. মিলন। নিহত সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী এবং ওই এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের কেদারের বাড়ীর মোঃ মুরাদ মিয়ার ছেলে।

রাজমিস্ত্রি সাইফ উদ্দিন প্রকাশ সাইফুল ইসলাম ২০১৫ সালের মার্চ মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তার পিতা মো. মুরাদ মিয়া কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (নং-৪৪৩)। নিখোঁজ রাজমিস্ত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোন নং ০১৮৫০৩৬৩৬৩ থেকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ২০১৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আবারও নিহত সাইফ উদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে তার চাচাতো ভাই মো. সবুজের মুঠোফোনে করে এক বছর আগে নিখোঁজ হওয়া সাইফ উদ্দিন আটক আছে বলে মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে রাজ মিস্ত্রী সাইফ উদ্দিন হত্যা মামলার বাদী তার ভাই মো. হেলাল উদ্দিন অনুসন্ধান করে জানতে পারে যে, তার ভাইয়ের ব্যবহৃত মুঠোফোনের সিমটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি মো. নিজাম উদ্দিন সবুজের নামে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে। এরই সূত্র ধরে পুলিশ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহার নামীয় তিন জনকে গ্রেফতার করে।

নিহত সাইফুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোনের সূত্র ধরে ২৭ সেপ্টেম্বর মুছাপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাজমিস্ত্রী সাইফুলকে নির্মম ভাবে হত্যা করারপর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ধৃত নিজাম উদ্দিন সবুজ। ২০১৫ সালে ভেড়া বিক্রির কথা বলে রাজমিস্ত্রি সাইফ উদ্দিনকে উড়ির চর নিয়ে যায়। সবুজ ও তার সহযোগিরা সাইফ উদ্দিনের কাছ থেকে ভেড়া কেনার সব টাকা, মুঠোফোনসহ সব কেড়ে নেয়। এর পর সাইফ উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশ গুম করে মুক্তিপণের দাবি করে আসছে।
বুধবার সকালে পুলিশ সবুজকে নিয়ে চরএলাহি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড দূর্গম চরাঞ্চল উড়িরচরে যায়। ঘাতক নিজাম উদ্দিন সবুজের দেয়া তথ্য মতে লাশ উত্তোলনের জন্য পর পর তিনটি স্থানে মাটি খনন করে পুলিশ। ঘাতক সবুজ পুলিশকে ভুল তথ্য দেয়ায় খনন করা ওই তিনটি স্থানে পুলিশ নিহত সাইফুলের লাশ বা কঙ্কালের কোন হদিস পায়নি। মামলার তদন্তকারী অফিসার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারকৃত তিন জনকে নোয়াখালীর আদালতে হাজির করে। ঘাতক নিজাম উদ্দিন সবুজ রাজমিস্ত্রী সাইফ উদ্দিনকে হত্যার পর লাশ গুম করার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেয়। বিজ্ঞ বিচারিক আদালত তার জবানবন্দী রেকর্ড করে তিন জনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

নিহত রাজমিস্ত্রী সাইফ উদ্দিনের ভাই হেলাল উদ্দিন ২৮ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এজাহার নামীয় তিন জন ও অজ্ঞাত নামা ৭-৮ জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং ১৭) দায়ের করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে