সোমবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
Home > সারা বাংলা > ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ সেনাবহিনীর ব্রিফিং : ২ জঙ্গি নিহত, অপারেশন চলছে

‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ সেনাবহিনীর ব্রিফিং : ২ জঙ্গি নিহত, অপারেশন চলছে

https://www.noakhalitimes.com

সারাবাংলা ডেস্ক :: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া ভবনের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান  ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত দুই জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, প্যারা কমান্ডোরা গুলি করে দুই জঙ্গিকে হত্যা করেছে। নিহত দুই জঙ্গিই পুরুষ। সেখানে এখনও একাধিক জঙ্গি অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পুরো আতিয়া মহলে বিস্ফোরক ছড়িয়ে আছে। নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে অভিযান শেষ করতে কিছুটা সময় নিয়েই অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে ভেতরে এক বা একাধিক জঙ্গি জীবিত রয়েছে। তবে কতো জন পুরুষ বা কতো জন নারী, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ফখরুল আহসান বলেন, ভেতরে যেসব জঙ্গি ছিল, যারা ছিল তারা প্রশিক্ষিত, কীভাবে গ্রেনেড প্রতিহত করা যায়, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে কিভাবে বাঁচা যায়, এগুলো জানে তারা। অভিযান চলাকালে ভবনের ভেতরে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু ওই গ্রেনেড জঙ্গিরা কমান্ডোদের দিকে পাল্টা ছুড়ে মারে।

ফখরুল আহসান বলেন, ঘরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক ফিট করে রেখেছে জঙ্গিরা। এতে বুঝা যায়, জঙ্গিরা জানে, কীভাবে নিজেদের আবাসস্থল দুর্গম করে রাখতে হয়।

তিনি বলেন, যেভাবে তারা বিস্ফোরক লাগিয়ে রেখেছে, তাতে অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এজন্য সময় বেশি লেগেছে। তবে আমাদের প্রাথমিক যে টার্গেট ছিল, ভেতরে থাকা সাধারণ লোকদের সরিয়ে আনা, তাতে কমান্ডোরা সফল হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নীচতলার সিঁড়ির দিকে বেশি পরিমাণে বিস্ফোরক লাগিয়ে রাখে জঙ্গিরা। তাদের ধারণা ছিল, অভিযান নীচতলা থেকে শুরু হয়ে উপরে যাবে। যে জন্য তারা নীচে বিস্ফোরক লাগায়। যখন কমান্ডোরা ভবনে ঢুকে বিষয়টি দেখতে পায়, তখন উল্টোভাবে অভিযান শুরু করেন। পাঁচ তলা থেকে শুরু হয় অভিযান। একটা থেকে আরেকটা ফ্লোরে অভিযান হয়। এভাবে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আটকা পড়াদের উদ্ধার করা হয়। নীচতলায় অভিযানের সময় সিঁড়ি ব্যবহার না করে জানালার গ্রিল কেটে নীচতলায় থাকা সাধারণ লোকদের উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় বৃষ্টি থাকায় অভিযানকারী দলের জন্য সহায়ক ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতে ভেতর থেকে অনেক কিছু বুঝতে পারেনি জঙ্গিরা।

ফখরুল আহসান বলেন, অভিযানে রকেট লঞ্চার দিয়ে ভবনে বড় গর্ত করা হয়। কিছু বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তাতেও প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের কাবু করা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এ শেলের প্রতিক্রিয়ায় ভেতরে জঙ্গিরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। এসময় উপর থেকে নীচতলায় নেমে আসার পর দুই জঙ্গিকে গুলি করা হয়। এতে এক জঙ্গি তার গায়ে জড়ানো সুইসাইড ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মারা যায়। অপরজন গুলিবিদ্ধ হয়েই মারা যায়। তবে লাশ দুটি ভেতরেই রয়েছে। দু’জনই পুরুষ। ভেতরে এখনও এক বা একাধিক জঙ্গি রয়েছে, এটা নিশ্চিত। তবে কয়জন পুরুষ বা কয়জন নারী আছে, তা নিশ্চিত নয়।

জঙ্গিদের কাছে স্মল আর্মস, রূপান্তরিত বিস্ফোরক (আইইডি) রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো দিয়ে তারা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছে।

গতকালের বাইরে হামলার সাথে ভেতরের জঙ্গিদের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অপারেশনের জন্য এসেছি। বাইরের বিষয়টি পুলিশ বা অন্য সংসস্থাগুলো বলতে পারবে।

তিনি বলেন, অভিযান চলছে। অভিযান শেষ করেই কমান্ডোরা ফিরবে। তবে অভিযান শেষ করতে কতো দিন বা কতো সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *